চৌকাঠে আলপনার ডিজাইন
চৌকাঠে আলপনা আমাদের ঘরের প্রবেশ পথকে শুভ আর সুন্দর করে তোলে। বড় উঠান বা ফ্লোরে
আলপনার জায়গা অনেক, কিন্তু ছোট চৌকাঠে আলপনা আঁকতে হয় আলাদা বুদ্ধি করে। ছোট
জায়গায় সিম্পল ডিজাইনই বেশি মানায়। দুই পাশ দিয়ে চিকন লতাপাতা টেনে মাঝখানে ছোট
পদ্মফুল বসিয়ে দিলে দেখতে নজরকাড়া লাগে। সাদা আলতা দিয়ে আঁকলে একটা গ্রাম্য
স্নিগ্ধ ভাব আসে। যারা একটু রঙিন পছন্দ করো তারা সাদার সাথে হালকা গোলাপি বা
সোনালি রঙ ছোঁয়া দিতে পারো ফুলের পাপড়িতে। বাচ্চাদের ঘরের চৌকাঠে আলপনা হতে পারে
মজার। চৌকাঠের দুই কোণায় ছোট ছোট গোল চোখ আর হাসি মুখ এঁকে দাও। মাঝখানে তারার
মতো ছোট ছোট ফোঁটা দাও। বাচ্চারা দরজা দিয়ে ঢোকার সময় এই মুখগুলো দেখে নিজেই খুশি
হয়ে যাবে। রঙ হিসেবে নীল আর হলুদ আলতা ব্যবহার করলে বাচ্চাদের চোখে লাগবে বেশি।
বিয়ে বাড়ির চৌকাঠ আলপনা একটু জাঁকজমক হওয়া চাই। চৌকাঠের বাঁ পাশে একটা মাছ আর ডান
পাশে আরেকটা মাছ মুখোমুখি করে আঁকো। মাঝখানে ছোট স্বস্তিকা চিহ্ন বা ওঁ আঁকো। লাল
আলতার সাথে সাদা চকের সরু বর্ডার দিলে ডিজাইনটা পরিষ্কার ফুটে উঠবে। বর কনের
নামের প্রথম অক্ষর দুই পাশে ছোট করে লিখে তার চারপাশে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে ঘিরে
দিতে পারো। এটা এখনকার বিয়েতে একদম নতুন ট্রেন্ড।
আরো পড়ুনঃ ডিজাইন সম্পর্কে ...
পহেলা বৈশাখ বা পূজা পার্বণে চৌকাঠে জ্যামিতিক আলপনা খুব সুন্দর লাগে। সমান
দূরত্বে ছোট ছোট ত্রিভুজ আঁকো, তার ভিতরে গোল ফোঁটা দাও। পাশাপাশি চৌকো ঘরের মতো
ডিজাইন করেও লাইন টেনে দিতে পারো। এক রঙের আলতা দিয়েই এই ডিজাইন করলে দেখতে
মিনিমাল আর আধুনিক লাগে। যাদের হাতের কাজ কাঁচা তারা পেপার কেটে স্টেনসিল বানিয়ে
নিতে পারো। স্টেনসিলের উপর দিয়ে আলতা ব্রাশ করে দিলে পারফেক্ট শেপ আসবে। আলপনা
টেকসই করার জন্য আলতার সাথে এক চিমটি ময়দা গুলে মিশিয়ে নিলে ভালো হয়। এতে পায়ের
ঘষায় রঙ দ্রুত উঠে যায় না। আলপনা আঁকার আগে চৌকাঠ শুকনো কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে
নিতে হবে। ধুলো থাকলে আলতা বসবে না আর ডিজাইন ফেটে যাবে। চৌকাঠের দুই পাশে ছোট
ছোট পাতার ঝালর দিয়ে মাঝখানটা ফাঁকা রাখলে জায়গাটা নিঃশ্বাস নিতে পারে। বেশি
ঘিঞ্জি করলে ছোট চৌকাঠে ডিজাইন বোঝা যায় না। ঈদের সময় চাঁদ আর তারার ডিজাইন
চৌকাঠে দারুণ মানায়। এক পাশে অর্ধচন্দ্র আর তার চারপাশে ছোট পাঁচ কোণা তারা ছড়িয়ে
দাও। রাতের বেলায় দরজা খুললেই মনে হবে আকাশের টুকরো নেমে এসেছে। শীতের সময় চৌকাঠে
শীতের ফুল যেমন গাঁদা আর চন্দ্রমল্লিকার পাপড়ি এঁকে দিতে পারো। কমলা আর হলুদ রঙের
মিশেলে পুরো ঘরে উৎসবের আমেজ আসবে।
চৌকাঠ আলপনা আঁকতে বেশি সময় লাগে না। ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই একটা দরজা সেজে ওঠে।
মেহমান আসার আগে দ্রুত চৌকাঠ সাজিয়ে নিলে ঘরের শোভা অনেক বেড়ে যায়। ছোট জায়গা বলে
ভুল হলেও দ্রুত মুছে আবার আঁকা যায়। তাই ভয় না পেয়ে নিজের মতো করে রঙ আর ডিজাইন
নিয়ে পরীক্ষা করো। প্রতিদিন একটা করে নতুন প্যাটার্ন ট্রাই করলে এক মাসে তোমার
নিজস্ব ৩০টা চৌকাঠ ডিজাইন কালেকশন হয়ে যাবে।
ব্লগমাস্টার আইটিনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url